অভিনব কায়দায় প্রতারণার মাধ্যমে নকল স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে মহিলা যাত্রীর কাছ থেকে আসল স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেন রিকশাচালক মো. জালাল মিয়া (২৮) ও মো. কবির হোসেন (৩২)। পরে ওই স্বর্ণ রিকশাচালক ভেসে প্রতারকচক্রের কাছ থেকে অল্প টাকায় কিনে নেন হাজারী লেইনের মনিরাজ জুয়েলার্স দোকানের মালিক মধুসুধন চৌধুরী (৬৫)।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী শুক্লার সাহসিকতায় নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশের জালে আটকা পড়ে সংঘবদ্ধ এ প্রতারক চক্রের তিন সদস্য।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামে রিকশাচালকের ভেসে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছিলো একটি সংঘবদ্ধ চক্রটি। একই পথে তিনটি রিকশা নিয়ে তাদের এমন অভিনব প্রতারণা চলতে থাকে নগরীর অলি গলিতে।
প্রতারণার জন্য সংঘবদ্ধ চক্রটি টার্গেট করে মহিলাদের। মহিলা যাত্রী রিকশায় উঠার পর সামনের দিকে চলতে থাকে আরো দুটি রিকশা। একই পথে চলতে থাকা প্রথম রিকশার চালক কাগজে মোড়ানো নকল স্বর্ণ সদৃশ একটি বস্তু রাস্তায় ফেলে দেন। মাঝের রিকশার চালক তা কুড়িয়ে নেন। এরপর পেছনের রিকশার চালক কৌশলে ওই মহিলাকে রিকশা নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে অন্য রিকশা ঠিক করে দেন।
এভাবে মাঝের রিকশায় উঠতে গেলেই শুরু হয় তাদের চাটুকারিতা। কাগজ পেচানো বস্তুকে দামী স্বর্ণের বারের লোভ দেখিয়ে মহিলাদের গলার চেইন, আংটি ও নগদ টাকা হাতিয়ে মুহুর্ত্বেই রিকশা নিয়ে কেটে পড়ে তারা। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিনব প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে তারা। এ বিষয়ে কোতোয়ালী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, দামপাড়া ওয়াসা মোড়স্থ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী শুক্লা দে ও গোপী বিশ্বাসের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাতে বলেন, গত বৃহস্পতিবার নগরীর কোতোয়ালি থানার সামনে থেকে চকবাজার থানাধীন গোল পাহাড় মোড়স্থ ডাচ বাংলা ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দ্যেশে আটক জালাল মিয়ার রিকশায় উঠেন। রিকশাটি সিডিএ বিল্ডিং এর গেইটের একটু সামনে পৌছালে তার রিকশার চাকার সামনে রাস্তার উপর হতে কাগজে মোড়ানো একটি স্বর্ণের বার তুলে নিয়ে পকেটে রাখেন। তখন শুক্লা ও গোপী দুজনেই স্বর্ণের বারটি কার পড়ে গেছে বলে দুঃখ প্রকাশ করে একে অপরের সাথে কথা বলছিলো। কিছুদুর যাওয়ার পর জালাল তার রিকশার চেইন নষ্ট হয়ে গেছে বলেন এবং ওই চক্রের আরেক সদস্য রিকশা চালক কবিরকে ডেকে তাদেরকে গন্তব্যে পৌছে দেওয়ার কথা বলেন। পরে রিকশাচালক ভেসি প্রতারক চক্রের সদস্যরা শুক্লা ও গোপীকে স্বর্ণগুলো কিছু টাকা দিয়ে তাদের কাছে রেখে দিতে অনুরোধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সরল বিশ্বাসে ১ জোড়া ৩ আনা ওজনের কানের দুল, ৪ আনা ওজনের ১টি আংটি ও নগদ ৪শ টাকা দিয়ে স্বর্ণবারটি কিনে নেন শুক্লা। পরে রিকশা চালকের ভেসে ওই প্রতারকরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরের দিন বিকেলে নগরীর সিনেমা প্যালেস মোড়ে জালাল ও কবিরকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন শুক্লা। তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম তাদের দুজনকে আটক করে। পরে স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়া স্বর্ণগুলো ক্রয় করার অভিযোগে হাজারী লেইনের মনিরাজ জুয়েলার্স দোকানের মালিককেও আটক করা হয়। পাশাপাশি তাদের সাথে থাকা ১টি রিকশা ও ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে জানায় কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন।